মূলদ ও অমূলদ সংখ্যা (rational and irrational numbers)

 মূলদ ও অমূলদ সংখ্যা (rational and irrational numbers):

ভূমিকা:গণিতের অন্যতম আলোচ্য বিষয় সংখ্যা পদ্ধতিএই সংখ্যা পদ্ধতির একটি  অংশ হলো মূলদ সংখ্যা (rational numbers)”এবং অমূলদ সংখ্যা (irrational numbers)”

মূলদ সংখ্যা:যে সকল সংখ্যাকে দুটি পূর্ণ সংখ্যার ভগ্নাংশ আকারে প্রকাশ করা যায়, যেখানে হর ≠0 অর্থাৎ হরের মান শূন্য এর সমান নয় তাদের মূলদ সংখ্যা বলা হয়।

আরও সহজভাবে বললে,যেসব সংখ্যাকে দুটি পূর্ণসংখ্যার অনুপাত বা ভগ্নাংশরূপে প্রকাশ করা যায়, তাদেরকে মূলদ সংখ্যা বলা হয়।

গণিতের ভাষায়, যদি কোনো সংখ্যাকে $\frac{p}{q}$ আকারে প্রকাশ করা সম্ভব হয়,যেখানে এবং উভয়েই পূর্ণসংখ্যা (0,士1,士2,士3,士4,士5,士6,......) এবং এর মান কখনো শূন্য হতে পারবে না অর্থাৎ q ≠0 তবে তাকে মূলদ সংখ্যা বলে।

মূলদ সংখ্যার উদাহরণ:

$\frac{2}{3}$

$\frac{3}{2}$

$\frac{6}{7}$

$\frac{-7}{6}$

$0$

$5$

$2.45$

$11.363636363636........$

আমরা অনেকেই মনে করি শুধু ভগ্নাংশই মূলদ সংখ্যা কিন্তু উদাহরণ পর্যালোচনা করে দেখা যাচ্ছে যে,পূর্ণ সংখ্যা,সসীম দশমিক সংখ্যা,অসীম আবৃত্ত দশমিক সংখ্যা ও মূলদ সংখ্যা।

কি কি ধরনের সংখ্যা মূলদ সংখ্যাঃ

পূর্ণসংখ্যা:সকল পূর্ণ সংখ্যা মূলদ কারন পূর্ণ সংখ্যাকে ভগ্নাংশ আকারে প্রকাশ করা যায়।যেমনঃ আমরা কে $\frac{5}{1}$ আকারে প্রকাশ করতে পারি।একইভাবে -6 কে$\frac{-6}{1}$ আকারে প্রকাশ করতে পারি। তাই সকল পূর্ণ সংখ্যা মূলদ

সাধারণ ভগ্নাংশ:সকল সাধারণ ভগ্নাংশ মূলদ।যেমনঃ$\frac{5}{3}$,$\frac{8}{9}$,$\frac{-9}{4}$,$\frac{11}{-21}$,$\frac{15}{19}$ ইত্যাদি।

সসীম দশমিক সংখ্যা:যেসব সংখ্যার দশমিকের পর অঙ্ক সংখ্যা নির্দিষ্ট অর্থাৎ হিসেব করে শেষ করা যায় তাদেরকে সসীম দশমিক সংখ্যা বলেআর এ সব সসীম দশমিক সংখ্যা মূলদ।যেমন:$2.45$,$0.459$,$120.984$,$76.72439046$ ইত্যাদি।

আবৃত বা পৌনঃপুনিক দশমিক সংখ্যা:দশমিকের পরে যদি একই বা একাধিক অঙ্ক বারবার আসে তবে তাকে আবৃত বা পৌনঃপুনিক দশমিক সংখ্যা বলে।সকল আবৃত বা পৌনঃপুনিক দশমিক সংখ্যা মূলদ।যেমনঃ\(4.\overline{68}\), \(0.\overline{576}\), \(10.\overline{2437}\) ইত্যাদি।

অমূলদ সংখ্যা:যে সকল সংখ্যাকে দুটি পূর্ণ সংখ্যার ভগ্নাংশ আকারে প্রকাশ করা যায়না তাদের অমূলদ সংখ্যা বলা হয়।

আরও সহজভাবে বললে,যেসব সংখ্যাকে দুটি পূর্ণসংখ্যার অনুপাত বা ভগ্নাংশরূপে প্রকাশ করা যায়না,তাদেরকে মূলদ সংখ্যা বলা হয়।

গণিতের ভাষায়, যদি কোনো সংখ্যাকে $\frac{p}{q}$ আকারে প্রকাশ করা অসম্ভব হয় তবে তাকে অমূলদ সংখ্যা বলা হয়।এদের দশমিক মান অসীম হয় এবং কোনো নির্দিষ্ট অঙ্ক বারবার পুনরাবৃত্ত হয় না অর্থাৎ এরা চিরকাল এলোমেলোভাবে চলতেই থাকে।

কি কি ধরনের সংখ্যা মূলদ সংখ্যাঃ

পূর্ণবর্গ নয় এমন সংখ্যার বর্গমূল:$\sqrt{10}$,$\sqrt{8}$,$\sqrt{19}$,$\sqrt{82}$ ইত্যাদি।

পাই(π) এর মানঃযেকোনো বৃত্তের পরিধি ও ব্যাসের অনুপাতকে বলা হয় পাই(π)।π এর মান $\frac{22}{7}$=3.141592653589793238462643383279502884197169399375..........

অয়লার এর সংখ্যা(Euler’s number):

e = 2.718281828459045235360287471352662497757247093699............

মূলদ ও অমূলদ সংখ্যার এর তুলনাঃ

মূলদ সংখ্যা

অমূলদ সংখ্যা

$\frac{p}{q}$আকারে লেখা যায়।

$\frac{p}{q}$ আকারে লেখা যায় না।

ভগ্নাংশে প্রকাশ করা যায়।

ভগ্নাংশে প্রকাশ করা যায় না।

দশমিক সসীম।

দশমিক অসীম।

কিছু প্রশ্ন ও উত্তর-

১। কি মূলদ সংখ্যা?হ্যাঁ।

২। সব পূর্ণ সংখ্যা কি মূলদ?হ্যাঁ।

৩। সব ভগ্নাংশ কি মূলদ?হ্যাঁ

৪।π কেন মূলদ নয়?কারণ কারণ এটি $\frac{p}{q}$ আকারে প্রকাশ করা যায় না এবং এর দশমিক মান অসীম ও অনাবৃত।

৫। $\sqrt{10}$ কেন অমূলদ?কারণ এটি $\frac{p}{q}$ আকারে প্রকাশ করা যায় না।

৬।\(8.\overline{638}\) কি অমূলদ?না।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

অনুপাত ও সমানুপাত(Ratio and Proportion)

দ্বিঘাত সমীকরণ (Quadratic Equation)

ত্রিভুজ(Triangle)

চতুর্ভূজ(Quadrilateral)

বৃত্ত(Circle)