সূচক (Exponent)
গণিতে সূচক (Exponent) কী?
সূচক হলো
এমন একটি গাণিতিক পদ্ধতি যার মাধ্যমে একই সংখ্যার বার বার গুণকে
সংক্ষিপ্তভাবে প্রকাশ করা হয়।
সহজ ভাষায় বলতে গেলে, একই সংখ্যাকে বারবার গুণ করার সংক্ষিপ্ত রূপই হলো সূচক।
উদাহরণ:৩×৩×৩×৩×৩×৩=৭২৯
এখানে ৩ সংখ্যাটি ছয়বার
গুণ করা হয়েছে। একে সূচকের সাহায্যে লেখা যায়:$$৩^৬$$
এখানে,৩ হলো ভিত্তি (Base) এবং
৬ হলো সূচক বা ঘাত
বা শক্তি (Exponent/Power)
অর্থাৎ, $$৩^৬$$ বলতে বোঝায় ৩ সংখ্যাটিকে ৬ বার গুণ করা
হয়েছে।
যেমন,যদি বলা হয় ৬-কে পরপর ৫ বার গুণ করতে। তাহলে আমরা লিখবঃ৬×৬×৬×৬×৬=৭৭৭৬
এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে গণিতের ভাষায় সংক্ষেপে লেখা হয়: $$৬^৫$$
এখানে ৬ এর ওপর যে ৫লেখা হয়েছে, এটিই হলো সূচক বা ঘাত বা শক্তি।এটিকে পড়ার নিয়ম হলোঃ ৬ to the power ৫
সূচকের সাধারণ রূপ হলো:xⁿ
এখানে,x = ভিত্তি,n = সূচক
xⁿ এর অর্থ:x×x×x×x×x...............×x (n বার)
সূচকের
মৌলিক সূত্রাবলী (Fundamental Laws of Exponents)
১।গুণের
সূত্র (Product
Law):যদি দুটি সূচকীয় রাশির ভিত্তি একই থাকে এবং তারা গুণ আকারে থাকে, তবে তাদের পাওয়ার
বা ঘাতগুলো যোগ হয়।
$$a^m \times a^n = a^{m+n}$$
উদাহরণঃ$$৫^৬ \times ৫^২ = ৫^{৬+২}=৫^৮$$
২।ভাগের
সূত্র (Quotient
Law):যদি দুটি সূচকীয় রাশির ভিত্তি একই থাকে এবং তারা ভাগ আকারে থাকে, তবে তাদের পাওয়ার
বা ঘাতগুলো বিয়োগ হয়।
$$\frac{a^m}{a^n} = a^{m-n}$$
উদাহরণ:$$\frac{৫^৬}{৫^৩} = ৫^{৬-৩}=৫^৩$$
৩।ঘাতের ঘাত সূত্র (Power of a Power Law):কোনো সূচকীয় রাশির যদি ঘাতের ওপর আবার ঘাত বা পাওয়ার থাকে, তবে পাওয়ার দুটি গুণ হয়।
$$(a^m)^n = a^{m \times n}$$
উদাহরণ:$$(৩^৫)^৬ = ৩^{৫ \times ৬}=৩^{৩০}$$
৪।গুণফলের ঘাত (Power of a Product):আলাদা দুটি ভিত্তির গুণফলের ওপর যদি একটি সাধারণ পাওয়ার থাকে, তবে সেই পাওয়ারটি প্রতিটি ভিত্তির ওপর আলাদাভাবে বসে।
$$(ab)^n = a^n \times b^n$$
উদাহরণ:$$(৫\times ৬)^৮ = ৫^৮ \times ৬^৮$$
৫।শূন্য সূচকের নিয়ম (Zero Exponent):শূন্য ছাড়া যেকোনো সংখ্যার(ধনাত্বক,ঋনাত্বক ও ভগ্নাংশ) ওপর পাওয়ার যদি শূন্য হয়, তবে তার মান সবসময় ১ হবে।
$$p^০ = ১ \quad (\text{where } p \neq ০)$$
উদাহরণ: $$৫^০ = ১$$, $$({১০০০০})^০ = ১$$,$$({-২})^০=১$$
৬।ঋণাত্মক
সূচকের নিয়ম (Negative
Exponent):কোনো সংখ্যার power যদি ঋণাত্মক হয়, তবে রাশিটি
ভগ্নাংশ আকারে নিচে চলে যায় এবং পাওয়ারটি ধনাত্মক হয়ে যায়।
$$a^{-n} = \frac{১}{a^n}$$
উদাহরণ: $$৫^{-৬} = \frac{১}{৫^৬}$$
$$২Χ৫^{-৬} = \frac{২}{৫^৬}$$
৭।ভগ্নাংশ বা মূলীয় সূচক (Fractional Exponent / Root):কোনো সংখ্যার Root বা মূলকে সূচকের ভগ্নাংশ হিসেবে প্রকাশ করা যায়।
$$\sqrt[n]{x} = x^{\frac{১}{n}}$$
$$\sqrt[৫]{a} = a^{\frac{১}{৫}}$$
উদাহরণ: $$\sqrt{m} = m^{\frac{১}{২}}$$ এবং $$\sqrt[৫]{৩২} = (৩২)^{\frac{১}{৫}} = (২^৫)^{\frac{১}{৫}} = ২^১ = ২$$
সূচকের ব্যবহারঃ
বিজ্ঞানে অনেক বড় ও অনেক ছোট সংখ্যা প্রকাশ করার জন্য সূচক ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ:আলোর বেগ ৩০০০০০০০০m/s যা সূচকের আকারে লিখা যায় $$৩X১০^৮ m/s$$
পৃথিবী ও সূর্যের দূরত্ব:$$১.৪৯৬X১০^{১১} m/s$$
কম্পিউটার বিজ্ঞানেও সূচকের গুরুত্ব অনেক।
উদাহরণ:
$$১KB=২^{১০}bytes$$
$$১MB=২^{২০}bytes$$
$$১GB=২^{৩০}bytes$$
$$১TB=২^{৪০}bytes$$
n তম বছরান্তে চক্রবৃদ্ধি মূলধন
$$C=P(1+r)^n$$
চক্রবৃদ্ধি মূনাফা
$$=C-P$$
$$=P(1+r)^n-P$$
চক্রবৃদ্ধি মুনাফা সম্পর্কে জানতে ভিজিট করুনঃচক্রবৃদ্ধি মূলধন ও মূনাফা এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধি।
মন্তব্যসমূহ