বর্গমূল(square root)
বর্গমূল কী?
কোনো সংখ্যাকে ঐ সংখ্যা দ্বারা গুণ করলে যে সংখ্যা পাওয়া যায়, তাহলে সেই সংখ্যাকে উক্ত সংখ্যার বর্গমূল বলা হয়।
অর্থাৎ
২×২=৪
তাহলে ৪ এর বর্গমূল হলো ২।
৩×৩=৯
তাহলে ৯ এর বর্গমূল হলো ৩।
গাণিতিকভাবে এটিকে প্রকাশ করা যায়:$$\sqrt{৪}=\sqrt{২\times২}=\sqrt{২^২}=২$$
আবার,$$\sqrt{৯}=\sqrt{৩\times৩}=\sqrt{৩^২}=৩$$
এখানে √ চিহ্নটিকে বলা হয় বর্গমূলের প্রতীক বা বর্গমূলের চিহ্ন (square root)।
বর্গসংখ্যা এবং বর্গমূলের সম্পর্ক
বর্গমূল বুঝতে হলে আগে বর্গসংখ্যা সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে।
যে সংখ্যাকে নিজে দ্বারা গুণ করলে নতুন সংখ্যা তৈরি হয় তাকে বর্গসংখ্যা বলে।
যেমন:
সংখ্যা বর্গ
১ ১
২ ৪
৩ ৯
৪ ১৬
৫ ২৫
৬ ৩৬
৭ ৪৯
এখন যদি ৬৪ এর বর্গমূল বের করতে চাই:
$$\sqrt{৬৪}=\sqrt{৮\times৮}=\sqrt{৮^২}=৮$$কারণ ৮ × ৮ = ৬৪।
পূর্ণ বর্গ সংখ্যাঃসব সংখ্যার বর্গমূল পূর্ণ সংখ্যা হয় না। যেসব সংখ্যার বর্গমূল পূর্ণ সংখ্যা, সে সংখ্যাদেরকে পূর্ণ বর্গ সংখ্যা বলা হয়।
ঋণাত্মক সংখ্যার বর্গমূল কিন্তু বাস্তব সংখ্যা হয় না।এর কোনো বাস্তব মান নেই, কারণ যেকোনো সংখ্যাকে সেই সংখ্যা দিয়ে গুণ করলে তা সবসময় ধনাত্মক হয়ে যায়। একে কাল্পনিক সংখ্যা বলা হয়, যা i দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
বর্গমূল বের করার সহজ পদ্ধতিসমূহ
গণিতে বিভিন্ন উপায়ে বর্গমূল নির্ণয় করা যায়। এখানে কয়েকটি পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করব।
ক) মৌলিক উৎপাদক পদ্ধতি:
৩২৪ এর বর্গমূল মৌলিক উৎপাদক পদ্ধতি এর সাহায্যে নির্ণয় করি।
ধাপ ১: প্রথমে সংখ্যাটির মৌলিক উৎপাদক (Prime Factors) বের করি।
৩২৪=২✖২✖৩✖৩✖৩✖৩
ধাপ ২: একই রকম উৎপাদকগুলোকে জোড়ায় জোড়ায় সাজাই।
৩২৪=(২✖২)✖(৩✖৩)✖(৩✖৩)
ধাপ ৩: প্রতি জোড়া থেকে একটি করে সংখ্যা নিয়ে সংখ্যাগুলোকে গুণ করি।
২✖৩✖৩=১৮
ধাপ ৪:প্রাপ্ত গুণফলই হচ্ছে ৩২৪ এর বর্গমূল।
সুতরাং ৩২৪ এর বর্গমূল=১৮
খ) ভাগ পদ্ধতিঃ
ধাপ ১: সংখ্যার ডানদিক থেকে জোড়ায় জোড়ায়
দাগ দিই।
৩২৪ হলে, ডানদিকে ১ম জোড়া ২৪
ধাপ ২: ডানদিকে ১ম জোড়া ২৪ নেওয়ার পর ৩ থাকে।৩ এর সাথে জোড়া না থাকয় ৩ এর জন্য এমন একটি সর্বোচ্চ সংখ্যা ১ বেছে নিয়েছি যার বর্গ ৩ সমান বা ছোট হবে।
ধাপ ৩: সাধারণ ভাগের মতো বিয়োগ করি এবং পরের জোড়াটি নিচে নামিয়ে আনি।
ধাপ ৪: ভাজককে দ্বিগুণ করে নতুন ভাজক তৈরি করি এবং প্রক্রিয়াটি পুনরাবৃত্তি করি যতক্ষন না পূর্ণ বর্গসংখ্যার ক্ষেত্রে ভাগশেষ ০ আসে।
ধাপ ৪:প্রাপ্ত ভাগফলই হচ্ছে ৩২৪ এর বর্গমূল।
সুতরাং ৩২৪ এর বর্গমূল=১৮
আবার,সংখ্যাটি পূর্ণবর্গ সংখ্যা না হলে,
ধাপ ১: সংখ্যার ডানদিক থেকে জোড়ায় জোড়ায়
দাগ দিই।
সংখ্যাটি ৩৪১২২৪ হলে, ডানদিক থেকে ১ম জোড়া ২৪,২য়
জোড়া ১২ ও ৩য় জোড়া ৩৪
ধাপ ২: ডানদিক থেকে ১ম জোড়া ২৪,২য় জোড়া ১২ ও ৩য় জোড়া ৩৪ ।৩৪ এর জন্য এমন একটি সর্বোচ্চ সংখ্যা ৫ বেছে নিয়েছি যার বর্গ ৩৪ এর ছোট।তবে সমান হলেও হবে।
ধাপ ৩: সাধারণ বিয়োগের মতো ৩৪ থেকে ২৫ বিয়োগ করি এবং পরের জোড়াটি ১২ নিচে নামিয়ে আনি।
ধাপ ৪: ভাজক ৫ কে দ্বিগুণ করে নতুন ভাজক ১০ তৈরি করি এবং প্রক্রিয়াটি পুনরাবৃত্তি করি।
ধাপ ৫: প্রক্রিয়াটি পুনরাবৃত্তি করে ভাগশেষ ১৬৮ পাওয়া গেল। এর অর্থ হচ্ছে 341224 সংখ্যাটি
পূর্ণবর্গ সংখ্যা নয়। এখন ভাগ করতে গেলে বর্গমূলটি দশমিকে আসবে। দশমিকে ভাগ করার
ক্ষেত্রে ৫৮৪ এর ডানে দশমিক দিয়ে ভাগশেষের সাথে জোড়াশূন্য নিয়ে আসতে হবে। এই
প্রক্রিয়া ততক্ষণ পর্যন্ত চলমান থাকবে যতক্ষণ না ভাগশেষ ০ আসে। তবে এই প্রক্রিয়া
অনন্তকাল ধরে চলতে পারে না তাই দশমিকের পরে চাহিদামত নিয়ে বাকিটাকে রেখে দিয়ে বর্গমূলটি শেষ
করতে হবে।
গ)অনুমান পদ্ধতিঃ৪২ এর বর্গমূল অনুমান করে করতে হলে।
৪২ এর পূর্ববর্তী পূর্ণবর্গ সংখ্যা ৩৬ যার বর্গমূল =$$\sqrt{৩৬}=\sqrt{৬\times৮}=\sqrt{৬^২}=৬$$
৪২ এর পরবর্তী পূর্ণবর্গ সংখ্যা ৪৯ যার বর্গমূল =$$\sqrt{৪৯}=\sqrt{৭\times৭}=\sqrt{৭^২}=৭$$
তাহলে দেখা যাচ্ছে যে,৪২ এর পূর্ববর্তী পূর্ণবর্গ সংখ্যা ও পরবর্তী পূর্ণবর্গ সংখ্যার বর্গমূল যথাক্রমে ৬ ও ৭।
তাই ৪২ এর বর্গমূল ৬ ও ৭ এর মধ্যে হবে।
ঘ)ক্যালকুলেটরের সাহায্যে
বর্তমানে মোবাইল ও কম্পিউটারের ক্যালকুলেটরে সহজেই বর্গমূল নির্ণয় করা যায়।
বাস্তব জীবনে বর্গমূলের ব্যবহার
আমদের অনেকের প্রশ্ন আছে, "বাস্তব জীবনে বর্গমূল শিখে আমার কী লাভ?"।আসলে উত্তর হলো, আমাদের মনের অজান্তেই আমরা প্রতিদিন বর্গমূলের ব্যবহার করছি।
বর্গাকার ঘর বা জমির পরিমাপ: ধরুন আপনার কাছে যদি একটি বর্গাকার জমি থাকে যার ক্ষেত্রফল ১৬০০ বর্গফুট, তবে তার একটি বাহুর দৈর্ঘ্য কত? এর উত্তরটি পেতে হলে আমাদেরকে বর্গমূল করে বের করতে হবে।
১৬০০ এর বর্গমূল=$$\sqrt{১৬০০}=\sqrt{৪০\times৪০}=\sqrt{৪০^২}=৪০$$
সুতরাং এক বাহুর দৈর্ঘ্য=৪০ ফুট
এভাবে বর্গমূল ব্যবহৃত হয়-স্থাপত্য ও প্রকৌশল,কম্পিউটার গ্রাফিক্স ও গেম ডেভেলপমেন্ট,অর্থনীতি ও পরিসংখ্যান,পদার্থবিজ্ঞান,কম্পিউটার বিজ্ঞান,গ্রাফিক্স ডিজাইন, গেম ডেভেলপমেন্ট,মেশিন লার্নিংয়,ব্যাংকিং ও অর্থনীতিতে।
মন্তব্যসমূহ